চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) আবুধাবি স্টপওভার প্রোগ্রামে বেশ সাড়া পেয়েছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। এ উদ্যোগের সঙ্গে আরো যুক্ত রয়েছে আবুধাবি সংস্কৃতি ও পর্যটন বিভাগ (ডিসিটি আবুধাবি)। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশেষ পরিষেবা থাকার কারণে স্টপওভার প্রোগ্রামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শহরটিতে যাত্রা বিরতিকালীন অবস্থান দ্রুত বাড়ছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
সর্বশেষ চার মাসে স্টপওভার প্রোগ্রামে ২৫ হাজার বুকিং পাওয়া গেছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি। এ সময় ৪৪ হাজার ভ্রমণকারী পেয়েছে আবুধাবি, যা গত বছরের ২৫ হাজারের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এ স্টপওভার প্রোগ্রামের সাফল্য এখন সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ যাত্রা বিরতিতে এক-দুদিনের অবসর কাটায় ভ্রমণকারীরা। এখন অনেক ভ্রমণকারী আগের অভিজ্ঞতায় সন্তুষ্ট হয়ে দীর্ঘ ছুটি কাটাতে ফিরে আসছে আবুধাবিতে।
২০২৪ সালে ৮৫ হাজার আন্তর্জাতিক স্টপওভার ভ্রমণকারী পেয়েছিল আবুধাবি, আগের বছর যা ছিল ১২ হাজার। সেই শক্তিশালী ধারা চলতি বছরও অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইতিহাদ আশা করছে, ২০২৫ সালে তারা ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি স্টপওভার অতিথিকে স্বাগত জানাবে।
এ প্রোগ্রাম ইতিহাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ককে আকৃষ্ট করছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ভ্রমণকারীরা ভালো সাড়া দিয়েছে। ইউরোপীয় দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের পর্যটকরা স্টপওভারের সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া তালিকায় রয়েছে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ভ্রমণকারীরা।
এদিকে মার্চে চালু হওয়া ডিজিটাল আবুধাবি পাস এ উদ্যোগের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ পাসের আওতায় থাকা সুবিধার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে বিমানবন্দরে যাতায়াত, ডাটাসহ পর্যটন সিম কার্ড, পাবলিক বাসে ভ্রমণ ও ২৪ ঘণ্টা ট্যুরিস্ট বাস ব্যবহার।
এছাড়া পাসধারীরা কাসর আল ওয়াতান, লুভর আবুধাবি, ইয়াস আইল্যান্ডের ফারারি ওয়ার্ল্ড, ওয়ার্নার ব্রস ওয়ার্ল্ড, সি ওয়ার্ল্ড ও ইয়াস ওয়াটারওয়ার্ল্ডের মতো আকর্ষণীয় স্থানে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পান।
এ বিষয়ে ডিসিটি আবুধাবির মহাপরিচালক সালেহ মোহাম্মদ আল গেজিরি বলেন, ‘ডাটা-নির্ভর মার্কেটিং, বৈচিত্র্যময় প্রোগ্রামিং ও সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আবুধাবি যে কৌশল নিয়েছে, তার ফলস্বরূপ ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে রাতারাতি ১৪ লাখ অতিথিকে স্বাগত জানানো সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘স্টপওভার প্রোগ্রামের সাফল্যের মধ্য দিয়ে আমরা আরো বৈশ্বিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চাই, যাতে আমাদের অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।’